অনার্সে ফেল করেও হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

অনার্স পরীক্ষায় নেই তার প্রথম শ্রেণি। দ্বিতীয় শ্রেণি নিয়ে ওই সময় যে ১৪ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিলেন সেখানে তার অবস্থান দশম। শুধু তাই নয় তিনিই একমাত্র শিক্ষার্থী অনার্সে কোর্স-৪০৩ এ করেছিলেন ফেল। পরে আবার পরীক্ষা দিয়ে অবশ্য ওই বিষয়ে পাস করেন। তাতে কি! তারপরও তিনি হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদভুক্ত ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এডহকে নিয়োগপ্রাপ্ত ইন্দ্রনীল মিশ্র’র কথা।

রাবির সদ্য বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান তার মেয়াদের শেষ দিনে ১১ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেন। তাদেরই একজন ইন্দ্রনীল মিশ্র। সম্প্রতি তার অনার্স এবং মাস্টার্স পরীক্ষার ফলাফল শিট এসেছে ডেইলি বাংলাদেশের কাছে। ফলাফল শিটে দেখা যায়, ইন্দ্রনীল মিশ্রের বিএসসি (অনার্স) পরীক্ষার রোল নাম্বার ছিল ০৬১১৫৬২২। ২০০৯ সালের বিএসসি (সম্মান) ফাইনাল পরীক্ষায় (২০১০ সালে সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত) দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ফলাফল খারাপ হওয়ায় এমএসসিতে থিসিস গ্রুপে যাওয়ার সুযোগ পাননি।

তবে এমএসসি পরীক্ষায় জেনারেল গ্রুপ থেকে প্রথম শ্রেণি পেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইন্দ্রনীল মিশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তার পিতা অধ্যাপক চিত্ত রঞ্জন মিশ্র। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন সিনিয়র অধ্যাপক। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। সদ্য বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের সঙ্গে তার ছিলো গভীর সখ্যতা।

এছাড়াও শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়া ইন্দ্রনীল মিশ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় চান্স না পেলেও ‘ওয়ার্ড কোটায়’ ভর্তি হয়েছিলেন। ইন্দ্রনীলের নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এমদাদুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছিল। আবেদনকারীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি থাকতে হবে বলা হয় সেখানে।

প্রথম শ্রেণি থাকতে হবে এমন বলা থাকে না। তবে আবেদনকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ইন্দ্রনীলের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা নেই। সাধারণত ভাইভা নিয়ে একজন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় কিন্তু এখানে তা হয়নি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, এমন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া বিস্ময়কর। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এটার দেখভাল করছে। তাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আমরা পরবর্তীতে জানাতে পারবো ওই শিক্ষককে যোগদান করতে দেয়া হবে কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *