Breaking News

উত্তেজক ট্যাবলেটসহ তিন নারী গ্রেফতার

বিপুল পরিমাণ উত্তেজক ট্যাবলেটসহ তিন নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত দেড়টার দিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাটের কামারপট্টির একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।গ্রেফতারদের মধ্যে একজন তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ভাড়া বাসায় সর্দারনীর আসনে রেখে গত দুই বছরের অধিক সময় ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পতিতাদের নিয়ে এসে মাদক ও দেহ ব্যবসা খুলে বসেছিল বলে অভিযোগ উঠে।

তাহিরপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ তরফদার জানান, পুলিশের গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে ওই তিন পেশাদার পতিতাকে গ্রেফতার করা হয়।থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনের দীর্ঘ দিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ওই বাসায় বুধবার মধ্য রাতে অভিযান চালায়।অভিযানে ওই বাসা থেকে সর্দারনী ও তার

সঙ্গে থাকা দুই নারীকে আটক করে। অপর একটি কক্ষে থাকা কয়েকজন খদ্দের পুলিশি অভিযানের খবর পেয়ে কৌশলে সটকে পড়ে। এরপর পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ জুয়া খেলার উপকরণ ও কয়েক বান্ডিল তাস জব্দ করে।গ্রেফতার দুই নারী জানান, তারা দুইজনই প্রেমপরবর্তী দ্বিতীয় বিয়ের শিকার। স্বামীরা জুয়া ও ইয়াবা আসক্ত ছিলেন সেটি তাদের আগে জানা ছিল না। এরপর স্বামীরা জুয়া খেলা আর ইয়াবা কেনার টাকার জন্য তাদের দেহ ব্যবসায় যেতে

বাধ্য করে। খদ্দেরদের কাছ থেকে প্রাপ্ত টাকার অর্ধেক ভাগ সর্দারনী নিয়ে নিত বলে জানান তারা।গ্রেফতার সর্দারনী জানান, তার স্বামী ফোন করে খদ্দের পাঠাত এবং বিভিন্নভাবে পতিতাদের নিয়ে এসে ভাড়া বাসায় দেহ ব্যবসা চালিয়ে যেতে তাকে বাধ্য করা হয়।অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে আটক হওয়া এক মেয়ের বিরুদ্ধে দেহ ব্যবসার অভিযোগ আনলেন তার গর্ভধারিণী মা। ওই মা জনসম্মুখে জানান, ইয়াবা আসক্ত স্বামীকে ত্যাগ ও দেহ ব্যবসা থেকে সরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার তাগিদ দিলেও

মেয়ে উল্টো মায়ের সঙ্গেই অসদাচরণ করে আসছিল।উপজেলার বাদাঘাট বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী পাড়ার লোকজন জানান, রাত-দিন কামারপট্টির ভাড়া বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য বিভিন্ন লোকজনের অবাধ যাতায়াত ছিল গত দুই বছরের অধিক সময় ধরে। তাদের এসব কার্যকলাপ থেকে বারবার বিরত থাকার আহবান জানানোর পর উল্টো প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে হামলা-মামলার ভয়ভীতি দেখাত সর্দারনী ও তার স্বামী।বৃহস্পতিবার বিকালে সর্দারনীর স্বামীর কাছে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি সুনামগঞ্জ আছি- বলেই মোবাইল ফোনের সুইস বন্ধ করে দেন।তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেন। এরপর গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন থানার ওসি।

Check Also

স্বামীর পরকীয়া, ননদ-ভাবির আত্মহত্যার অভিযোগ!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্বামীর পরকীয়ার জেরে ননদ ও ভাবির আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রোববার (১৪ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *