বারবার আপত্তিকর অবস্থায় আটক, তবু থামছেন না গার্লস স্কুলের দুই শিক্ষক

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার শহীদ আব্দুল জব্বার মঙ্গলবাড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক সুমাইয়া উম্মে শামসি’র মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চলছে। তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ভেঙে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা। স্থানীয়রা জানায়, এই দুই শিক্ষককে বারবার আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তবু তারা থামছেন না।

অনৈতিক র্কমকাণ্ডের জন্য এর আগে কয়েকবার তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। কিন্তু প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ ও টাকার জোরে প্রতিবার পার পেয়ে যান তারা। এমনকি এ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও লাভ হয়নি। উল্টো অভিযোগকারীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে নওগাঁর সীমান্তবর্তী ধামইরহাট উপজেলার মঙ্গলবাড়ি গ্রামের প্রতিষ্ঠিত হয় শহীদ আব্দুল জব্বার মঙ্গলবাড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। সেই থেকে সুনামের সঙ্গেই চলছিল বিদ্যালয়টির কার্যক্রম।

২০০১ সালের ৩ জানুয়ারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেন আবুল কালাম আজাদ। পরের বছর সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন সুমাইয়া উম্মে শামসি। এরপর থেকেই অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দুই শিক্ষক। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদ প্রধান শিক্ষক হওয়ার আগে জয়পুরহাটে গ্রামীণ ব্যাংকের দোগাছী শাখায় মাঠকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন। সে সময় নারি কেলেঙ্কির কারণে চাকরিচ্যুত হন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে জয়পুরহাটের একটি বাসায় সহকারী প্রধান শিক্ষক সুমাইয়া উম্মে শামসির সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি। এর আগে, গত বছরের এপ্রিলে রাজশাহীতে একটি প্রশিক্ষণে ও নভেম্বরে নিজ বাসায় ওই নারী শিক্ষকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হন আবুল কালাম আজাদ। তখনও তাদের আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এর মধ্যেই বন্ধ স্কুলে কোনো কারণ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটান দুই শিক্ষক। গত ২০ মার্চ স্থানীয়রা তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে এবং অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে মুক্ত হন তারা। এরপর এক সাংবাদিক ও পাঁচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা করেন অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ। জাহানপুর ইউনিয়নের মেম্বার ওবাইদুল ইসলাম বলেন, স্কুল বন্ধ। কিন্তু আবুল কালাম আজাদ এবং ওই শিক্ষক প্রতিদিন স্কুলে আসেন।

অনেকক্ষণ ভেতরে থাকেন তারা। হাতেনাতে ধরা পড়ে এখন নিরীহদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন আবুল কালাম আজাদ। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি খাজা ময়েন উদ্দিন বলেন, প্রধান শিক্ষকের নারী কেলেঙ্কারির বিষয়ে সবাই জানে। ২০ মার্চ স্কুলের ভেতরেই হাতেনাতে ধরা পড়ায় তারা নিরীহ শিক্ষক-সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন,

বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। ২০১২-১৫ সাল পর্যন্ত খাজা ময়েন উদ্দিন বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। পরেরবার তিনি নির্বাচিত হতে পারেননি। এ কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ রটাচ্ছেন। আমি কোনো নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত নই।এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষিকা সুমাইয়া উম্মে শামসির মোবাইলে বারবার কল ও মেসেজ পাঠালেও তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।

ধামইরহাটের ইউএনও গনপতি রায় বলেন, শহীদ আব্দুল জব্বার মঙ্গলবাড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক সুমাইয়া উম্মে শামসি’র অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *