টাঙ্গাইলে শিক্ষার্থীসহ বিক্রি হবে স্কুল!

স্কুল বিক্রি হবে। শুনতে অবাস্তব মনে হলেও ঘটনা সত্য। সম্প্রতি ১শ’ শিক্ষার্থীসহ টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি স্কুল বিক্রি করে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক।

আশপাশের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো স্কুল না থাকায় ২০০৮ সালে টাঙ্গাইলের মধুপুরের বেরিবাইদ দক্ষিণ জাঙ্গালিয়া এলাকায় স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ৬০ শতাংশ জমির ওপর তৈরি করা ‘আলোর ভুবন আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামের স্কুলটি এতোদিনেও কোনো সহযোগিতা পায়নি বলে দাবি পরিচলকের। তাই বিক্রি করে দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

আলোর ভুবন আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ২০০৮ সালে আমার কিছু বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এই স্কুলটি চালু করি। এই গ্রামের প্রায় চার থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে কোন স্কুল না থাকায় আমরা ছেলে মেয়েদের কথা ভেবে এটি প্রতিষ্ঠা করি। এই স্কুল থেকে প্রায় ১০টি ব্যাচ বের হয়েছে, যারা দেশের বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। কয়েকজনের সহায়তায় স্কুলটি চালাতে পারলেও বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হচ্ছে।

বাড়ির পাশে স্কুল হওয়ার নিরাপদে আসা যাওয়া করতে পারছেন শিক্ষার্থীরা। স্কুলটি বন্ধ হয়ে গেলে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ার আশংকা তাদের। শিক্ষার্থীরা জানান, পাঁচ বছর ধরে এই স্কুলে পড়ছে। স্কুলের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তারাও অনেক সুযোগ সুবিধা পায়নি। অন্য স্কুলে যেতে অনেক সমস্যা হয়, কিন্তু এটা কাছে হওয়ায় এখানে

পড়ছে। এটি বন্ধ হলে তাদের অনেক সমস্যা হবে। তারা চায় সরকার যেন স্কুলটি চালু রাখতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে।স্কুলটি টিকিয়ে রাখতে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন শিক্ষকরাও।টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। শতভাগ শিশু যেন বিদ্যালয়ে যেতে পারে তার জন্যও

পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রত্যেক দের হাজার মানুষের জন্য একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় রাখার বিধান রয়েছে। এরপরও মধুপুর গড় অঞ্চলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি যেন চালু থাকে এবং সরকারি স্বীকৃতি এবং সহায়তা পায় এ নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Check Also

সদ্য প্রসূত সন্তানকে পরীক্ষা দিলেন মা, বাচ্চা কোলে রাখলেন উপজেলা চেয়ারম্যান

সদ্য প্রসূত সন্তানকে নিয়ে দাখিল পরীক্ষা দিতে আসেন মা। কিন্তু ঘটে বিপত্তি। কিছুতেই সন্তানের কান্না …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *