ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহার না করায় জেল থেকে বেরিয়ে তরুণীকে হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে গত ২০শে নভেম্বর পূর্বগুজরা ইউনিয়নের সিকদারঘাটার পশ্চিম পাশ থেকে উদ্ধার করা অজ্ঞাতনামা নারীর লাশের পরিচয় ও হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে রাউজান থানা পুলিশ। একই সঙ্গে ওই নারীর খুনের সঙ্গে জড়িত তিন খুনিকে আটক করে গতকাল আদালতে সোপর্দ করেছে।পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই নারীর নাম আমেনা বেগম প্রকাশ রাহি প্রকাশ শারমিন (২২)। তিনি কক্সবাজার সদর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কুতুবদিয়া পাড়ার নুর হোসেনের কন্যা।

তিনি চট্টগ্রামের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী।পুলিশ জানিয়েছে, ভিকটিমের সঙ্গে নিজ পাড়ার আবদুল শুক্কুরের ছেলে প্রভাবশালী নুরুল ইসলাম প্রকাশ বাদশার সঙ্গে শারমিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। এই অবস্থায় নুরুল ইসলাম আবারো বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারমিনকে গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য করেন। এই পরিস্থিতিতে ভিকটিম ও তার পরিবার নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ করে গত ২০১৯ সালের ১১ই নভেম্বর

কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করে।জেল থেকে জামিনে এসে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম আমেনা আক্তার ও তার পরিবারকে মামলা প্রত্যাহার করতে চাপ দেয়। তাতে কোন কাজ হয়নি, মামলা প্রত্যাহার করেনি আমেনা ও তার পরিবার। অবশেষে ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে বিয়ের করার আশ্বাস দিয়ে পরিবারের অজান্তে আমেনা আক্তার তথা শারমিনকে চট্টগ্রামের নিয়ে আসে। চট্টগ্রাম শহরে এনে লালদীঘির পাড়ে একটি হোটেলে একদিন রাখে।

পরদিন ইপিজেড থানা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। পরে তাকে নিয়ে চট্টগ্রামের বিনোদন স্পটে ঘুরে বেড়ায় নুরুল ইসলাম।এখানে তাকে রেখে নুরুল ইসলাম খুনের পরিকল্পনার করে সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করে তার বেয়াই (বোনের দেবর) লালখান বাজারের বসবাসকারী ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার মৃত গোলাম হোসেন এর পুত্র আকতার হোসেন (৩৫) ও অপরজন রাউজানের জিয়াবাজার এলাকায় বসবাসকারী নোয়াখালীর হাতিয়া বাজারের রাশেদ মিয়ার পুত্র ট্যাক্সি চালক মেহেরাজ প্রকাশ মিরাজ (২৩) এর সাথে।তিনজনের পরিকল্পনা অনুসারে গত ১৯শে নভেম্বর হোটেল থেকে শারমিনকে নিয়ে ট্যাক্সিতে করে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন স্পটে বেড়াতে বের হয়। এভাবে ঘুরে বেড়ানোর ফাঁকে ১৯শে নভেম্বর

তারা শহরে ফিরে যাওয়ার আগে সুযোগ বুঝে শারমিনকে হত্যা করার। তারা তিনজন কাপ্তাই রোড ধরে চট্টগ্রাম শহরের দিকে আসার পথে রাউজানের পাহাড়তলি এলাকা পার হয়ে নিরিবিলি জায়গায় এলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ও আক্তার শারমিনকে প্রথমে গলা চেপে ধরে। পরে গলায় ওড়না পেঁচয়ে হত্যা করে গাড়ির ভিতর।এরপর গাড়িটি নোয়াপাড়া পথেরহাট থেকে উত্তরমুখী রাউজান-নোয়াপাড়া সেকশন-২ পথের প্রায় চার কিলোমিটার ভিতরে গিয়ে নিরিবিলি স্থানের পূর্বগুজরা ইউনিয়নের সিকদার ঘাট সংলগ্ন স্থানে লাশটি ফেলে চলে যায়। তখন বাজে রাত সাড়ে ৮টা। পরদিন ২০শে নভেম্বর দুপুর ১২টার রাউজান থানা পুলিশ মৃত আমেনা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে মর্গে প্রেরণ করে।রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি আশা করছেন আদালতে জবানবন্দিতে একই ধরনের স্বীকারোক্তি প্রদান করবে

Check Also

দেড় মাস পর দেখা মিলল ডা. মুরাদ হাসানের, যা বললেন

দীর্ঘ দেড় মাস পর সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপির দেখা মিলল তার নির্বাচনী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *