লঞ্চে আগুন: ১৭ দিনেও খোঁজ মেলেনি পপির

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের সতের দিন পার হয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি বরগুনার পাথরঘাটার ফজিলা আক্তার পপির।এতে পপির স্বজনরা উদ্বেগ–উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নিখোঁজ ফজিলা আক্তার (২৫) বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের ছোট টেংরা গ্রামের আফজাল হোসেনের মেয়ে।স্বজনেরা দুর্ঘটনার পর এমভি অভিযান-১০ লঞ্চসহ ঝালকাঠি ও বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে এবং বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজখবর নিয়েও তার সন্ধান পাননি। পপি বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) ঢাকা থেকে পাথরঘাটায় অভিযান-১০ লঞ্চে রওনা হন।

একমাত্র মেয়ে লামিয়াকে (১৩) বাবার বাড়ি থেকে নিজ কর্মস্থল ঢাকার সাভারে বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য নিতে আসছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস পপির ইচ্ছেটা পূরণ হলো না।পপির বৃদ্ধ বাবা আফজাল হোসেন বলেন, ‘একমাত্র মাইয়াডারে হারাইলাম। এহন ক্যামনে থাকমু। জামাই মাইয়াডারে ৭ বছর আগে তালাক দিয়া যায়। জীবন বাঁচাইতে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করতো। মাইয়াডার লাশটা পাইলেও কবরডা দেখতাম।

পপির ১৩ বছরের একমাত্র মেয়ে লামিয়া বলে, ‘মায় কইছিল, বাড়িতে আইয়া মোরে ঢাকায় নিয়া ভালো একটা স্কুলে ভর্তি করাইবে। এহনো মায় আয় নাই। হুনছি যে লঞ্চে আগুন লাগছে হেই লঞ্চেই মোর মায় আছিল। এহন মোরে মা কইয়া কেডা বোলাইবে। মোর মায় কি আইবে?এর আগে (২৪ ডিসেম্বর) শুক্রবার রাতে ঝালকাঠি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরগুনার ৩৬টি লাশ গ্রহণ করেন বরগুনা-২ আসনের সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান। পরে তিনি ওই লাশ বরগুনা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন। এছাড়াও জাতীয় সংসদের ৩১৫ মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরা ঝালকাঠি ও বরিশাল অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা করেন।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ বলেন, এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অনেক যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেককে দেখা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। প্রচণ্ড শীতের রাতে তাঁরা নদী সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন কি না, তা স্বজনেরাও বলতে পারেননি। তবে

অনেককে আবার দেখা গেছে, লঞ্চ থেকে নামার সময় তাঁর শিশুসন্তানকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এ সময় তাঁরা আবার লঞ্চের দিকে দৌড়ে গিয়ে আগুনে আটকা পড়ে যান। এ অবস্থায় শিশু, নারীসহ লঞ্চ যাত্রীদের চিৎকারে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।এ পর্যন্ত সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বরগুনার পাথরঘাটায় ৪ জনের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। পপিসহ এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

Check Also

দেড় মাস পর দেখা মিলল ডা. মুরাদ হাসানের, যা বললেন

দীর্ঘ দেড় মাস পর সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপির দেখা মিলল তার নির্বাচনী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *